শখের আমি, শখের তুমি, শখ দিয়ে যায় চেনা

কাল সন্ধ‍্যে সাতটা নাগাদ গুম্গুমে পায়ে ঘরে ঢুকে সেই যে নাতনী গোঁসাঘরে খিল দিলো, সারা সন্ধ‍্যে নট্ নড়ন চড়ন, নট্ কিচ্ছু! আমিও বসে রইলুম গ‍্যাঁট হয়ে ইজি চেয়ারে বডি ফেলে। আবার কি ঝগড়া করে এল নাকি কপোতাক্ষটার সঙ্গে? এ তো মেলা ফ‍্যাচাং দেখছি! আরে বাপু, আজ বাদে কাল ওর সঙ্গে গাঁঠছড়া বাঁধতে চলেছিস, ফি মাসেই তোদের কিছু না কিছু নিয়ে ঘচাং ফু লেগেই আছে?

আমাদের দু’ জনের দুই মেরুর বোম্বাগড়ের রাজা মার্কা মুখ দেখে কী করবে ভেবে না পেয়ে না চাইতেই বাড়তি দু’ কাপ চা দিয়ে গেল খাঁদু। আমাদের দাদু-নাতনীর সংসারে ও-ই একাধারে সব। বাজার হাট, রাঁধাবাড়া, ধোওয়া মোছা সবই সামলায়।

দশটা বাজল। কোনো মানে হয়? এরপর দেরী করে খেলে তো বুকে ভিসুভিয়াস নাচবে! চুপ করে বসে থাকা গেল না। দরজা ধাক্কাতে গিয়ে দেখি ভেজানো মাত্র। আস্তে হাতের চাপে দরজা খুলে দেখলুম বিছানায় শুয়ে ফোঁস ফোঁসাচ্ছে মেয়ে। কাছে গিয়ে মাথায় হাতটি রাখলুম। বললুম, “হ‍্যাঁ রে, দশটা তো বেজে গেছে। খাবি না?”

নীরবে মাথা নেড়ে বললে ‘না’। ততোধিক মিহি গলায় বললুম, “তোকে ফেলে কোনোদিন খেয়িচি কি?”

নাতনী কাষ্ঠগলায় বললে, “তুমি খেয়ে নাও, দাদু! আমি আজ খাবো না। কালও খাবো না। ইন্ ফ‍্যাক্ট, আমি আর কোনোদিনই খাবো না। কারণ খেলেই বেঁচে থাকতে হবে। আর আমি বাঁচতে চাই না।”

বুঝলুম কেস কেঁচে জণ্ডিস্। বললুম, “ঠিক আছে, যা তোর ইচ্ছে। আমাকে বুড়ো বয়সে মোক্ষম মার মেরে আধমরা করে ফেলে রেখে গেল তোর বাবা-মা। এখন বাকি আধাটা না হয় তুই-ই মার।”

পুরো গল্পটা পড়ুন মাত্র 10 টাকায় (ভারতীয় টাকা)

Leave a Reply

আমি মৈত্রেয়ী

এককালে সাহিতে‍্যর ছাত্রী ছিলাম বলে বোধহয় কিছু একটা অব‍্যক্ত ভাব-ভাবনা যা আমার একার বলে মনে হলেও মন মানে না। সে চায় এই ভাবনা সর্বসাধারণের মনের প্রাঙ্গঁণে শরতের কাশের মতো ফুটে উঠুক। আমি হতে চাই সেই আমার অষ্টাদশী বেলায় ফেলে আসা কলেজের গেটের সামনে বসা লাল পাগড়ি চুমদার গোঁফবিশিষ্ট বেহারী ফুচকাওয়ালার মতন। আমার টক-ঝাল-মিষ্টি লেখাগুলো আপনাদের মনের শালপাতায় টপাটপ পড়বে আর আপনারা গপাগপ তা সাবড়ে দেবেন, তবেই না মজা! কি বলেন?

Let’s connect

Discover more from বং ঢং ডট কম্

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading